![]() |
| মেয়াদ শেষের আগেই ভাঙছে ইসলামী আন্দোলনের কমিটি, শীর্ষ পদে রদবদলের আভাস |
ঢাকা, ২৬ জুন ২০২৬: কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ছয় মাস বাকি থাকতেই কমিটি ভেঙে নতুন নেতৃত্ব আনার উদ্যোগ নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল পর্যালোচনা এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটি এই আগাম পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।
দলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠেয় দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম 'মজলিশে শুরা'র বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
কেন এই আগাম পুনর্গঠন?
দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ দুই বছর এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর এটি পুনর্গঠন করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী মূল্যায়নে কিছু সাংগঠনিক দুর্বলতা চিহ্নিত করেছে দলটি। এর মধ্যে রয়েছে:
এককভাবে নির্বাচন করার ক্ষেত্রে কৌশলগত ঘাটতি
প্রার্থী বাছাইয়ে ত্রুটি
স্থানীয় পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তা
সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় এবং সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে ছয় মাস অপেক্ষা করতে চাইছে না দলটির হাইকমান্ড। তাই দ্রুত পুনর্গঠন শেষ করে নতুন নেতৃত্বকে মাঠে নামাতে চায় তারা। গঠনতন্ত্রের ১১ ধারা অনুযায়ী, আমিরকে নির্ধারিত সময়ের আগেই কমিটি পুনর্গঠনের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মহাসচিবসহ শীর্ষ পদে পরিবর্তনের সম্ভাবনা
শনিবারের মজলিশে শুরার বৈঠকে নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই নতুন কমিটিতে নায়েবে আমির, মহাসচিব, যুগ্ম মহাসচিব ও সহকারী মহাসচিবসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ও শীর্ষস্থানীয় পদে নতুন মুখ আসতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন:
"সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনায় দলের মধ্যে পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। ছয় মাস অপেক্ষা করলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতিতে দেরি হয়ে যাবে। সে কারণে মজলিশে শুরার বৈঠকে কমিটি পুনর্গঠনের এজেন্ডা তোলা হবে। মজলিশে শুরার সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে দলের আমির এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।"
'চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী' থেকে 'রাজনৈতিক দল' হওয়ার লক্ষ্য
নির্বাচনে দুই বড় রাজনৈতিক ধারার বাইরে থেকে প্রায় ২২ লাখ ভোট (প্রায় ৩ শতাংশ) পাওয়াকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইতিবাচক ভিত্তি হিসেবে দেখছে ইসলামী আন্দোলন। এই মূল্যায়নের ওপর ভর করে দলটি এখন তরুণ, নারী ও পেশাজীবীদের মধ্যে সাংগঠনিক বিস্তার বাড়াতে চায়। একই সাথে ছাত্র ও যুবসংগঠনকে আরও সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
দলটির নেতারা বলছেন, এই পুনর্গঠনের উদ্দেশ্য কেবল ব্যক্তি পরিবর্তন নয়, বরং সংগঠনকে একটি পুরোদস্তুর নির্বাচনী রাজনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন:
"আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই নির্বাচনী রাজনীতিতে ভালো করা। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে একটি প্রেশার গ্রুপ (চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী) থেকে সত্যিকার অর্থে পলিটিক্যাল পার্টি (রাজনৈতিক দল) হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এরই অংশ হিসেবে দলকে নির্বাচনী রাজনীতির জন্য উপযোগী করে তোলার চেষ্টা চলছে।"
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন এই নেতৃত্ব নির্বাচনী রাজনীতিতে আরও কার্যকর ও পেশাদার ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন দলটির নীতিনির্ধারকেরা।
