এডমিট কার্ড বিতরণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় : অভিযোগের পেছনের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দিলেন ছাত্রদল নেতা আবু বকর ছিদ্দিক আবুক।✍️বরিশাল প্রতিনিধি: মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে (বিশেষ করে এডমিট কার্ড) আপনাদের একটি অভিযোগ ও প্রশ্নের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছি। দয়া করে লেখাটি মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা যেমন: পিএসসি/ইবতেদায়ী ও জেএসসি/জেডিসি (যদিও এ দু'টি পরীক্ষা আপাতত বন্ধ রয়েছে), এসএসসি/দাখিল, এইচএসসি/আলিম, অনার্স/ডিগ্রি/ফাজিল এবং মাস্টার্স/কামিলের এডমিট কার্ড বিতরণের সময় অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা, আবার অনেক ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। অনেকেরই প্রশ্ন, "এই টাকা কেনো নেওয়া হয়? শিক্ষাখাতে তো সরকার বরাদ্দ দেয়!"অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দাবি, এই অর্থ মূলত প্রশ্নপত্র ও পরীক্ষা সংক্রান্ত অন্যান্য সামগ্রী আনা-নেওয়া, নিরাপত্তা স্বার্থে পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্বরতের ভাতা বা আপ্যায়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাতা বা আপ্যায়ন এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যয় মেটানোর জন্য ব্যয় করা হয়। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, শিক্ষা দপ্তর, শিক্ষা বোর্ড-সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে পরীক্ষা পরিচালনার আনুষঙ্গিক ব্যয়ও হয়ে থাকে। অনেক প্রতিষ্ঠানের মতে, সরকারের পক্ষ থেকে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রে এসব ব্যয় সম্পূর্ণভাবে বহন করার জন্য যথেষ্ট হয় না।যেহেতু অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অব্যবসায়ী এবং লাভের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয় না, পাশাপাশি তাদের নিজস্ব আয়ের উৎসও সীমিত, তাই এসব অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে অনেক প্রতিষ্ঠান এডমিট কার্ড বিতরণের সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করে।তবে এটিও মনে রাখা জরুরি যে, কোনো অর্থ আদায় করা হলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নীতিমালা ও বিধিমালার আওতায় হতে হবে। অনুমোদনহীন বা অতিরিক্ত অর্থ আদায় কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।পরিশেষে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সরকারের কাছে বিনীত আহ্বান_ যেহেতু এসব ব্যয় বহন করা অনেক সাধারণ পরিবারের জন্য কষ্টসাধ্য, তাই পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যয় সরকারিভাবে বহনের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হোক। এর ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের প্রয়োজন হবে না।এ বিষয়ে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী-সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।