দেশের সংকটময় অবস্থায় সংবেদনশীল পথে কালিমার পতাকা উড়িয়ে কি বার্তা দেয়.?জামালউদ্দিন মুহাম্মদ খালিদ, তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন।কালেমার পতাকা প্রজেক্টগুলোকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরেই সন্দেহের চোখে দেখে আসছেন। বিশ্বকাপ কিংবা আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানোর প্রবণতা নতুন কিছু নয়। এর প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পতাকায় কালিমা সংযোজন বা তথাকথিত ‘স্বাধীন বাংলা সালতানাতের’ কালিমা-অঙ্কিত পতাকা ওড়ানোর উদ্যোগকে কেউ কেউ দাওয়াহ বা ইসলামের প্রচারের কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে আবেগনির্ভর ও প্রতিক্রিয়াশীল কর্মকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময় অতিক্রম করছে। পাকিস্তান, তুরস্ক ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য সামরিক ও বেসামরিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগকে ঘিরে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশকে অস্থিতিশীল করার নানা চেষ্টা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগও সামনে আসছে।সম্প্রতি ইসরায়েলের এক কূটনীতিকের বক্তব্যে বাংলাদেশে হামাসের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের সংবেদনশীল সময়ে কালেমার পতাকা ইস্যু সামনে আনা হলে তা অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং দেশের ভাবমূর্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে আরও একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে—কেন কিছু গোষ্ঠী বা ব্যক্তি কেবল জাতীয় বা আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতেই এমন বিতর্কিত ইস্যু সামনে নিয়ে আসে? তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল বা দেশীয়-আন্তর্জাতিক প্রভাবক গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।বিশ্লেষকদের অভিমত, ধর্মীয় আবেগ ও জাতীয় স্বার্থ—উভয় ক্ষেত্রেই দায়িত্বশীলতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দেওয়া জরুরি। কোনো উদ্যোগ যেন অনিচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি, বিভাজন বা অস্থিতিশীলতার কারণ না হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকা সময়ের দাবি।
Tags
দেশ